প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডিও (ED) তদন্ত করছে। পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে ইডি বারবার ডাকলেও তিনি সাড়া দেননি বলে অভিযোগ। এ হেন পরিস্থিতিতে মানিকের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা যায় সে ব্যাপারে হাইকোর্টের কাছে পরামর্শ চাইল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি।
সিবিআই দফতরে মানিক হাজিরা দিলেও সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি অফিসারদের কাছে যাননি তিনি। ছুতোয়নাতায় বারবার হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে আদালতে জানিয়েছে ইডি। গোটা বিষয় জানিয়ে হাইকোর্টের পরামর্শ চেয়েছেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্তারা।
আইনজ্ঞদের মতে, মানিকের বিরুদ্ধে ইডি যে কড়া পদক্ষেপের কথা ভাবছে এটা তারই ইঙ্গিত। তাঁদের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশে প্রাথমিক নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্ত হচ্ছে। যদিও ইডির ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশের প্রয়োজন নেই। কারণ আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত যে কোনও মামলায় ইডি স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ঢুকে পড়তে পারে।
টেট দুর্নীতিতে সেভাবেই ঢুকেছিল ইডি। পর্যবেক্ষকদের মতে, যেহেতু গোটা ব্যাপারটায় আদালত জড়িয়ে রয়েছে তাই ইডিও মানিকের বিষয়টি আদালতে ছুঁইয়ে রাখল। যা তাত্পর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
ইডি এর আগেও দাবি করেছে, প্রাথমিক নিয়োগে কাঁচা টাকার লেনদেন হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৬১ জন প্রাথমিক শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্তও করেছে আদালত। প্রসঙ্গত, যে সময়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছিল সেই সময়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
আবার পার্থবাবুর সঙ্গে মানিক ভট্টাচার্যের সম্পর্ক কেমন ছিল তাও মোটামুটি সবার জানা। পার্থবাবুকে শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করেছে ইডি। এবার সেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিই গুটি গুটি পা বাড়াচ্ছে মানিক ভট্টাচার্যের দিকে।

No comments:
Post a Comment