চোখের ছানি কাটাতে 'চোখের আলো' কর্মসূচিকে সফল করতে রাজ্য সরকার এবার আশা কর্মীদের নামাতে চায়। এজন্য তাঁদের 'মোটিভেটার' বা 'মোবিলাইজার' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাঁদের নির্দিষ্ট কাজের ফাঁকেই পাড়ায় পাড়ায় ছানির জেরে দৃষ্টিহীনতায় ভুগছেন এই মানুষকে শনাক্ত করে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এনে তাঁদের অপারেশন-সহ উপযুক্ত চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে।
এজন্য রোগী পিছু আশা কর্মীদের সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা পর্যান্ত উত্সাহ ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে জারি হয়েছে নির্দেশিকা। রাজ্যে ন্যাশনাল কন্ট্রোল ফর কন্ট্রোল অফ ব্লাইন্ডনেস ইন ইন্ডিয়ার 'চোখের আলো' কর্মসূচি রূপায়ণের সাফল্য নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার।
এই প্রকল্পের লক্ষ্যই হল, অন্ধত্ব দূর করা। ৬ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়ে বা ৪৫ উর্ধ্ব মানুষের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে ভুগলে বিনা পয়াসায় চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে।
অপারেশন পর্যন্ত হবে বিনা পয়সায়। মূলত বিনা পয়সায় ছানি অপারেশনই এই কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়। নবান্নের দেওয়া স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টেই বলা হয়েছে, ১৪টি জেলা ও স্বাস্থ্য জেলায় এই কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ পূরণ হয়নি। যা লক্ষ্যমাত্রা ছিল মালদায় তার মাত্র তিন শতাংশ ও পুরুলিয়ায় চার শতাংশ ছানি অপারেশন শিবির হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও উত্তর দিনাজপুরে চিত্রটা তুলনায় একটু ভাল হলেও শিবিরের লক্ষ্যমাত্রা ২০ শতাংশ পেরোয়নি।
তাই 'চোখের আলো'কে সফল করতে ছানি পড়েছে এমন রোগী খুঁজতে রাজ্য সরকার আশা কর্মীদের পথে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবারই ন্যাশানাল হেল্থ মিশনের এক নির্দেশিকায় পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে, শুধু ছানি পড়া রোগীকে আশা কর্মীরা চিহ্নিত করবেন না, তাঁদের সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনতে হবে।
অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। ওই আশা কর্মী তাঁকে অপারেশনের দিন বাড়ি থেকে আনবে। অপারেশনের পর এক মাসের মধ্যে ডাক্তারকে দাখানোর জন্য তাকে আশা কর্মীরা হাসপাতালে আনবে সংশ্লিষ্ট চোখের চিকিত্সকের কাছে।
এরপরও কোনও রোগীকে একাধিকবার চিকিত্সকের কাছে আনতে হলে আশা কর্মীদের আলাদা করে রোগী পিছু ১৫০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি রাজ্য সরকারের সঙ্গে ছানি অপারেশন শিবির করলে সেখানেও রোগী আমার জন্য আশা কর্মীদের এই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।

No comments:
Post a Comment