আক্ষেপ যাচ্ছে না পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের রামকৃষ্ণডাঙার সিংহ পরিবারের। বুধবার আসানসোলের রামকৃষ্ণডাঙায় গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সেখানে ছিল শিবচর্চা এবং কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান। শুভেন্দু চলে যাওয়ার পর হুড়োহুড়ির জেরে সেখানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।মৃতদের তালিকায় রয়েছে রামকৃষ্ণডাঙার বাসিন্দা, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী প্রীতি সিংহ। তার মৃত্যুতে শোকে পাথর গোটা পরিবার।
বুধবার রামকৃষ্ণডাঙায় মেয়ে প্রীতিকে নিয়ে শিবচর্চা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তার মা কিরণ সিংহ। সেই আক্ষেপ যাচ্ছে না কিরণের। তিনি বলেন, ''আমরা গরিব পরিবার। তবুও মেয়েটার যতদূর পড়ার ইচ্ছা ছিল, তত দূর ওকে পড়াতাম আমরা। ও বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হোক, এটাই চেয়েছিলাম। কিন্তু কোথা থেকে কী হয়ে গেল। আমার মেয়েটা যে চলে গেল, এখন কী হবে!'' প্রীতি স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
প্রীতির কাকিমা মণি কুমারী সিংহের বক্তব্য, ''এমনটা না ঘটলেই হত। আমরা এর বিচার চাই। আমরা তো শিবচর্চা ভেবেই গিয়েছিলাম। জানি না ওখানে কেন এত ভিড় হল। ওখানে এমন ঘটনা ঘটবে কেউ ভাবিনি। ওখানে এত ভিড় হয়েছিল যে, আমরা কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না।''
বছর আষ্টেক আগে মৃত্যু হয়েছে প্রীতির বাবা মুন্না সিংহের। তার পর থেকে সংসার চালান প্রীতির দাদা বিকাশ। বোনের মৃত্যুর সুবিচার চাইছেন তিনি। ওই একই দাবি তুলেছেন রামকৃষ্ণডাঙার বাসিন্দা চাঁদমণি দেবী এবং কাল্লার বাসিন্দা ঝালি বাউড়ির পরিবারেরও। চাঁদমণি এবং ঝালি দু'জনেরই মৃত্যু হয়েছে বুধবার সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হয়ে।

No comments:
Post a Comment