হরিদেবপুরের যুবকের হত্যাকাণ্ডে যেন লুকিয়ে রয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য । তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই একের পর এক অবাক করে দেওয়ার মত তথ্য হাতে আসছে পুলিশের। অয়ন মণ্ডল নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে তাঁর বান্ধবী এবং বান্ধবীর মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগ উঠে এসেছিল।তাকে খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বান্ধবী, বান্ধবীর মা, তাঁর ভাই, তাঁর বাবা সহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশের অনুমান সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে ওই তরুণকে। পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী , ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের কিছু ভিডিও এবং ছবিকে কেন্দ্র করে ওই গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় । আর সেই গন্ডগোলেরই এমন চরম পরিণতি হয়।
ধৃতদের লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের ফলে যে তথ্য পুলিশের হাতে উঠে এসেছে, তার উপর ভিত্তি করে তাদের দাবি, দশমীর দিন রাতে অয়ন যখন তাঁর বান্ধবীর বাড়িতে যায় সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না বান্ধবী। একা ছিলেন বান্ধবীর মা। সেখানেই বান্ধবীর মায়ের সঙ্গে হাতাহাতি হয় অয়নের।
এরপর বাড়িতে আসে অয়নের বান্ধবী , তাঁর বাবা এবং ভাই। মারধর করা হয় অয়নকে। ইট জাতীয় ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করায় মৃত্যু হয় অয়নের। আর এরপর তাঁর মৃতদেহ লোপাট করার জন্য চলে তোড়জোড়।
ইতিমধ্যেই যেখানে অয়নকে খুন করা হয়েছিল অর্থাত্ তাঁর বান্ধবীর বাড়ির দোতলার ঘরের ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু সেই ঘর থেকে এক ফোঁটাও রক্তের নমুনা মেলেনি। অর্থাত্ শুধু খুন করে দেহ লোপাট নয়, সমস্ত রকম প্রমাণ ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলে অয়নের বান্ধবী পরিবার ।
আর তারপর পরিকল্পনা মত বান্ধবীর ভাই তাঁর দুই বন্ধুকে ডেকে একটি মিনিডোরে করে হরিদেবপুর থেকে তাঁর দেহ নিয়ে যায় মগরাহাটে। অয়নের ফোনটিকে সুইচ অফ করে ফেলে দেওয়া হয় জলাশয়ের মধ্যে। বর্তমানে অয়নের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত । চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এই খুনের আসল মোটিভ কী তা জানতে তত্পর পুলিশ।

No comments:
Post a Comment