অবশেষে গতকাল ওই দুই কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বসিরহাট থেকে। এই ঘটনায় পরিবারের তরফ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছিল আগে থেকেই। পরিবার সহ এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন যে, যদি পুলিশ সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করত তাহলে ওই দুটি পরিবারকে তাদের সন্তান হারাতে হতো না। ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে সত্যেন্দ্র চৌধুরীর। তা্ঁর বাড়িতে ক্ষিপ্ত জনতা যখন ভাঙচুর চালায় তখন তাদেরকে বাধা দিতে সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন বাগুইআটি থানার আইসি , এমনটাই জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ওই দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করবে সিআইডি । আপাতত তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের হাতেই।এই সিদ্ধান্তে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা । অন্যদিকে এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র এখনও পর্যন্ত অধরা।
অভিজিতের কাছ থেকে তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে পারেন যে, কিছুদিন আগেই সত্যেন্দ্র বিধাননগর রাজারহাটের একটি হোটেলে দেখা করে অভিজিত্ এর সঙ্গে। সেই হোটেলে অভিজিত্ কর্মরত ছিল। এছাড়াও অভিযুক্ত বাকি তিনজনকে জোগাড় করেছিল সত্যেন্দ্র নিজের। এরপরই কীভাবে হত্যা করা হবে, এই সমস্ত পরিকল্পনা করা হয়। সত্যেন্দ্রর আসল টার্গেট ছিল অতনু কিন্তু ঘটনার দিন অতনুর সঙ্গে তাঁর পিসতুতো ভাই অভিষেক থাকায় খুন করতে হয় তাকেও।
২২ অগস্ট স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে অতনু। ঠিক তখনই সত্যেন্দ্রর ফোন। তা কী কারণে অতনুকে ফোন করেছিলেন সত্যেন্দ্র? অতনুর পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, একটি বাইক কেনার জন্য সত্যেন্দ্রকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল দশম শ্রেণির পড়ুয়া অতনু। টাকা দেওয়া হয়ে গিয়েছে। অথচ বাইক আর কেনা হচ্ছে না। কিন্তু ওই দিন নাকি অতনুকে নিজেই ফোন করে বাইক কেনার জন্য ডাকেন সত্যেন্দ্র। বেশ খুশি মনেই বাড়ি থেকে বের হয় অতনু। সঙ্গে নেয় সমবয়সি তুতো ভাই অভিষেককে।
বিধাননগর পুলিশের দাবি, ওই দিন রাতেই খুন করা হয় দুই তুতো ভাইকে। এ জন্য তারা ধৃত জনৈক অভিজিত্ বসুর বয়ান তুলে ধরেছে। তাঁকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, শুধু সত্যেন্দ্র, অতনু এবং অভিষেক নয়, ওই গাড়িতে ছিলেন আরও কয়েক জন। বাসন্তী হাইওয়ের উপর চলন্ত গাড়ির মধ্যে হঠাত্ দুই কিশোরের গলায় ফাঁস লাগানো হয়। খুন করা হয় দুই ছাত্রকে। তার পর, কিছু দূর এগিয়ে রাস্তার পাশে নয়ানজুলিতে ছুড়ে ফেলা হয় একটি দেহ। কিছু দূর এগিয়ে আরও একটি দেহ।
এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতিতে তোলবার।

No comments:
Post a Comment