যাঁরা বাড়ি তৈরি বা নির্মাণ কাজ করছেন, তাঁদের জন্য সুখবর। এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেল বালির দাম। বীরভূম, বর্ধমানে যে বালিঘাট গুলি রয়েছে, সেখানে বালি তোলার খরচ কমার ফলে ট্রাক পিছু বালির দাম কমেছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনাচক্রে অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পরেই এই দাম কমেছে।
বীরভূম, পূর্ব বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য বালি ঘাট। অজয়, কাঁসাই, কংসাবতীর মতো নদ- নদীগুলির বুক থেকেই বালি তোলা হয়। সূত্রের খবর, এতদিন এই সমস্ত বালিঘাটে ২৫০ স্কয়ার ফুট বালি তোলার খরচ পড়ত ১০,৫০০ টাকা মতো। অভিযোগ, এই বালি ঘাটগুলি থেকে নিয়মিত তোলা আদায় করা হয়। সেই বাবদ প্রতি ২৫০ স্কয়ার ফুট বালি বাবদ আরও ২০০০ টাকা করে নিয়ে নিতেন বালিঘাটগুলির মালিকরা। এর সঙ্গে বর্ধমান, বীরভূম থেকে কলকাতা আসার পথে লরিগুলি থেকে নানা অজুহাতে টাকা আদায় করা হত বলে অভিযোগ।
ট্রাক চালকরা বলছেন, গত কয়েকদিনে এই তোলাবাজির অত্যাচার অনেকটাই কমেছে। পুলিশের বিরুদ্ধেও এই ধরনের অভিযোগ তুলছেন না ট্রাক চালক এবং মালিকরা। বালিঘাট গুলিতেও ২৫০ স্কয়ার ফুট বালির দাম পড়ছে ৮০০০ টাকা। আগে যা পড়ত সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। এক সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পরিবহণ খরচ। ফলে আগে যেখানে কলকাতায় ২৫০ স্কয়ার ফুট বালির দাম পড়ত ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজারের আশেপাশে।
বীরভূম জুড়ে অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর অনুগামীদের দাপটের কথা কারও অজানা নয়। নিন্দুকরা বলেন, অনুব্রতর ইশারা ছাড়া বীরভূমে গাছের পাতাও নড়ে না। তাই অনুব্রতকে সিবিআই গ্রেফতার করার পর পরই বালির দাম সস্তা হওয়া নিতান্ত কাকতালীয় না কি দু'টি বিষয়ের মধ্যে যোগ রয়েছে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ব্যবসায়ী এবং লরি মালিক ও চালকদের মধ্যে।
এতদিন বালি বহনকারী লরিগুলিকে রীতিমতো মান্থলি কার্ড রাখতে হত। যাতায়াতের পথে লরিগুলি ঠিক ভাবে তোলার টাকা মেটাচ্ছে কি না, এই কার্ডে রীতিমতো তার হিসেব রাখা হত। সেই উপদ্রবও এখন কমেছে বলে দাবি লরি চালকদের। সবমিলেয়ে বালির ক্রেতারা যেমন দাম কমায় খুশি, সরকমই জুলুমবাজি কমায় খুশি লরি মালিক এবং চালকরাও।

No comments:
Post a Comment