বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক ছিল নবান্নে । সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।
জ্যোতিপ্রিয় তৃণমূলে বালু নামেই বেশি পরিচিত।
জানা গিয়েছে, তাঁকে উদ্দেশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সটান প্রশ্ন করেছেন, বালু তোমার নামে এত অভিযোগ শুনছি কেন? পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রেখে চলো। কেন আমাকে অভিযোগ শুনতে হবে?
বালুকে দিয়ে শুরু করলেও পরে সকল মন্ত্রীকেই ব্যক্তিগত ও সরকারের ভাবমূর্তি সম্পর্কে সচেতন হয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে নতুন মন্ত্রীদের বলেছেন, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সমস্ত ফাইল যেন ভাল করে পড়েন। তারপর যেন সই করেন।
সূত্রের খবর, ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সতীর্থ মন্ত্রীদের সতর্ক করে এও বলেছেন যে, বিজেপি ফাঁদ পেতে বসে রয়েছে। কখন কোন ছিদ্র পাবে চেপে ধরবে। তাই বুঝে চলতে হবে। কাউকে কোনও সুযোগ দেওয়া যাবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সরকারে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ছিলেন খাদ্য মন্ত্রী। সেই সঙ্গে গোটা উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি ছিলেন তিনি। দিদির তৃতীয় মেয়াদে সেই জ্যোতিপ্রিয় তথা বালু মল্লিককে পাঠানো হয়েছে বন দফতরে। সেই সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সাংগঠনিক ভাবে ভেঙে দেওয়ায় বালুর ক্ষমতা অনেকটাই খর্ব হয়ে গেছে। তাত্পর্যপূর্ণভাবে আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তির যে মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট, সেই মামলাতেও অভিযোগ রয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে।
তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, জ্যোতিপ্রিয় হয়তো উপলক্ষ মাত্র। দিদি সম্ভবত সকলকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন। কারণ, পার্থ-অনুব্রত কাণ্ডের পর সরকার ও দলের ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে মন্ত্রীরা চাইলে সদর্থক ভূমিকা নিতে পারেন।

No comments:
Post a Comment