নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় উত্তরপত্রে (ওএমআর শিট) কারচুপির অভিযোগে জড়াল শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার অয়ন শীলের নাম।
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সূত্রে দাবি, অয়নের বাড়ি থেকে ওএমআর শিটের যে প্রতিলিপি উদ্ধার হয়েছে, তার উপর বসানো বারকোডের সংস্থার সঙ্গে অয়নের যোগসূত্রের হদিস মিলেছে।শুধু তা-ই, উদ্ধার হওয়া ওএমআর শিটের প্রতিলিপিগুলির মধ্যে কয়েকটি আবার ২০১২ সালের টেটের। যা 'তাত্পর্যপূর্ণ' বলেই মনে করছেন তদন্তকারীদের একাংশ।
সদ্য বহিষ্কৃত হুগলির যুব তৃণমূল নেতা শান্তনুর নাম জড়িয়ে আছে, এমন বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং রিসর্টে শনিবার তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। সেই সূত্রেই অয়নের নাম উঠে আসে। তল্লাশি চলে তাঁর বাড়িতেও। তদন্তকারীদের একটি সূত্রে আগেই জানা গিয়েছে, অয়নের বাড়ি থেকে শতাধিক ওএমআর শিটের প্রতিলিপি পাওয়া গিয়েছে।
ইডির ওই সূত্রের দাবি, অয়নকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের টেটের ওএমআর শিটে বারকো়ড বসানোর বরাত পাওয়া সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল। অয়নের চুঁচুড়া ও সল্টলেকের ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযানেও সেই সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে ইডি সূত্র। ঘটনাচক্রে, সিবিআইয়ের চার্জশিটেও ওই সংস্থার নাম রয়েছে।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, 'নিয়োগ দুর্নীতি'র তদন্তে শান্তনুর মোবাইল থেকেও ২০১২ সালের টেটের অ্যাডমিট কার্ড মিলেছিল। এ বার ওই বছরের টেটের ওএমআর শিটের প্রতিলিপি মিলল অয়নের বাড়ি থেকে।
ওএমআর-এ বারকো়ড বসানো সংস্থার সংস্থার সঙ্গে অয়নের যোগসূত্রের 'তথ্যপ্রমাণ' হাতে আসায় তদন্তকারীদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তা হলে কি বারকো়ডে কারসাজি করেই ওএমআর শিটে কারচুপি করা হয়েছে? তা কি আদৌ সম্ভব? এ বার সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চাইছেন ইডি আধিকারিকেরা।
তা ছাড়া, এখনও পর্যন্ত 'প্রাথমিকে দুর্নীতি'র যত অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, তার সবই ২০১৪ এবং ২০১৭ সালের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। এ বার অভিযুক্তদের কাছ থেকে ২০১২ সালের অ্যাডমিট ও ওএমআর শিটের প্রতিলিপি উদ্ধার স্বাভাবিক ভাবে তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে।

No comments:
Post a Comment