কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান বাক্সে ফের টাকার পাহাড়। প্রায় ১৫ বস্তা টাকা, সোনা ও রুপোর গয়নার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রাও মিলেছে। সেই সঙ্গে ইচ্ছেপূরণের আর্তি জানানো একাধিক চিঠিও পাওয়া গিয়েছে দানবক্স থেকে।শনিবার ওই বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে ১১ ঘন্টার বেশি সময় লেগেছে।
রাতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'পাগলা মসজিদের দান বাক্সে জমা পড়া টাকার পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। মোট ৩ কোটি ৮৯ লক্ষ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা জমা পড়েছে। ওই টাকা দিয়ে মসজিদ চত্বরে আন্তর্জাতিক মানের বহুতল কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে।'
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে ইচ্ছেপূরণের আর্জি জানিয়ে প্রতিদিনই দেশ ও বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত আসেন। মসজিদে আটটি বড় লোহার সিন্দুক বা দানবাক্স রয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর ওই দান বাক্স খোলা হয়। গত ২ জুলাই শেষ বার যখন দান বাক্স খোলা হয় তখন তিন কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এদিন জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ওই আটটি সিন্দুক খোলা হয়। সকাল আটটা ৪০ মিনিট থেকে টাকা গোনার কাজ শুরু হয়।
দান বাক্স থেকে টাকা, বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি অসংখ্য চিঠিও মিলেছে। তার মধ্যে এর মধ্যে চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যার প্রবণতার হাত থেকে বাঁচতে এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর করুণ আর্তি জানানো চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে লেখা রয়েছে- 'আমাকে বাঁচাও আত্মহত্যার হাত থেকে। আমি বাঁচতে চাই, আর নিতে পারছি না বেকারত্বের বোঝা। সবার খোঁচা দেওয়া কথা। একটা চাকরি হলে হয়তো বেঁচে যেতাম।'

No comments:
Post a Comment