রাত পোহালেই রাজ্যে ঢুকবে বাংলাদেশের ইলিশ। পুজোর উপহার হিসাবে পদ্মার ইলিশ আসতে চলেছে ও পার বাংলা থেকে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের ঠিক আগেই রবিবার পড়শি দেশের সরকারের পক্ষে ইলিশ রফতানিতে সম্মতির চিঠি পাঠানো হয়। সেই মতো মঙ্গলবার থেকেই হাওড়ার পাইকারি বাজারে আসতে শুরু করবে পদ্মার ইলিশ।
২০১২ সালে ইলিশ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ সরকার। তার পর থেকে কলকাতার বাজারে পদ্মার ইলিশ আসা বন্ধই ছিল। তবে গত তিন বছর ধরে দুর্গাপুজোর আগে ইলিশ রফতানিতে সম্মতি দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রক। একই ভাবে রবিবার 'ফিস ইমপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন'-এর কাছে একটি চিঠি এসে পৌঁছয়। চলতি বছরে ২,৪৫০ মেট্রিক টন বাংলাদেশি ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় হাসিনা সরকারের তরফে। এ দেশের মত্স্য-ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাছ আমদানির কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। মঙ্গলবার থেকে হাওড়ার পাইকারি বাজারে ১০০-১৫০ মেট্রিক টন ইলিশের আমদানি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি দিনই একই পরিমাণ মাছ ঢোকার কথা হাওড়ার বাজারে।
'ফিস ইমপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন'-এর সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ বলেন, ''বাংলাদেশ সরকার এখনও ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এ বারের ইলিশ রফতানি বিশেষ নির্দেশে। আমরা চাইছি, বাংলাদেশ সরকার পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা তুলে দিক। তা হলে সারা বছর ইলিশ আমদানি করা যাবে।
বর্ষার খামখেয়ালিপনায় এই বছর বাজারে নেই ইলিশ। দক্ষিণবঙ্গে ১৩ জুন মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করলেও ২২ জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়নি দক্ষিনবঙ্গে। উপকূলবর্তী দুই জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এইসময় রাজ্যের ইলিশের ন্যূনতম দৈনিক চাহিদা ৮০ থেকে ১০০ মেট্রিক টন। বর্তমানে জোগান রয়েছে মাত্র ৩৫ মেট্রিক টন।

No comments:
Post a Comment