পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছিল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকারের কথায়, যা দেখে গা শির শির করে উঠছিল! কিন্তু সিবিআইয়ের সূত্র জানাচ্ছে, অনুব্রত কাঁচা টাকা বিশেষ রাখেনি।
তা দিয়ে নানা ঘুর পথে সম্পত্তি করেছে। এবং সেই সম্পত্তির বহর পার্থর চেয়ে বেশি বই কম মোটেও না।
তা কীরকম?
সিবিআই সূত্র জানাচ্ছে, অনুব্রত মণ্ডলের একার নামেই ২৪টি সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা রয়েছে। তাঁর মেয়ে তথা সরকারি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকা সুকন্যা মণ্ডলের নামে রয়েছে ২৬টি সম্পত্তি। তাঁর স্ত্রী ছবি মণ্ডলের নামে রয়েছে ১২টি সম্পত্তি। আর অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেন, যাকে কিনা গরু পাচারকারীরা 'সাইকেল' বলে ডাকত তার নামে নথিভুক্ত রয়েছে ৪৭টি স্থাবর সম্পত্তি।
ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়নি। অনুব্রত মণ্ডলকে বাবা বলে ডাকতেন স্থানীয় বিদ্যুত্বরণ গায়েন নামে এক ব্যক্তি। তিনি আগে বোলপুর পুরসভার জঞ্জাল ফেলার গাড়ির খালাসি ছিলেন। অনুব্রতই নাকি তাঁকে পুরসভায় পাকা চাকরি করে দেন। পরে অনুব্রতর পরিবারের প্রায় সদস্য হয়ে ওঠেন বিদ্যুত্। তিনি কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন তা সুকন্যা মণ্ডলের ফেসবুক পেজের ছবি থেকে স্পষ্ট বোঝা যেতে পারে। সেই বিদ্যুতের নামে ৩২টি প্রপার্টি। বিদ্যুতের স্ত্রীর নামে রয়েছে দু'টি প্রপার্টি। আর অনুব্রতর ঘনিষ্ঠ কমলকান্তি ঘোষ এবং তাঁর পরিবারের ১৮টি সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি সিবিআইয়ের।
সিবিআইয়ের এক অফিসার বুধবার বলেন, নজর করলে দেখা যাবে অনুব্রত সাংবাদিকদেরও একটা কথা চিত্কার করে বলছেন। তা হল, যা সম্পত্তি রয়েছে তার জন্য আয়কর তথা ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া আছে। কিন্তু উনি হয়তো জানেন না যে কর দেওয়াই শেষ কথা নয়। আয়ের উত্স দেখাতে হবে।
সিবিআইয়ের সন্দেহ এক শ্রেণির চাটার্ড অ্যাকাউন্টের সাহায্যে অনুব্রত বিভিন্ন খাতে আয় দেখিয়ে ওই সব সম্পত্তি করেছে। বস্তুত সেই কারণেই বুধবার সকাল থেকে বীরভূমের কিছু চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিবিআই। প্রচুর কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও খবর।

No comments:
Post a Comment