মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মিলল সাড়া। বাংলার দুর্গাপুজোর আনন্দে এবার গা ভাসাবে ইউনেস্কোও। তাদের তরফে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর দুর্গাপুজো উপলক্ষে আয়োজিত কলকাতার মিছিলে অংশ নেবেন ইউনেস্কোর প্রতিনিধিও।
দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক উত্সবের স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এ দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। গতবছর ডিসেম্বরে অবশেষে মেলে সুখবর। বাংলার ঐতিহ্য, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্সব দুর্গাপুজোকে 'ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ'-এর (Intangible Heritage) তকমা দেয় ইউনেস্কো। এই বিরাট সম্মানের পরই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, এবার একমাস আগে থেকেই বাংলাজুড়ে শুরু হয়ে যাবে দুর্গাপুজো। এবার ১ অক্টোবর মহাসপ্তমী। সেই মতোই আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর শহরজুড়ে বের হবে মহামিছিল। এই মহাযজ্ঞে শামিল হতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ইউনেস্কোর প্রতিনিধিকেও। এবার সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে ইউনেস্কো জানিয়ে দিল, মহামিছিলে যোগ দেবেন তাদের প্রতিনিধিও।
গত বছর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্যারিসে বসে ইউনেস্কোর বিশেষ কমিটির সভা। সেখানেই দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক উত্সবের তকমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইউনেস্কোর তরফে জানানো হয়, ধর্ম-জাত-অর্থের বেড়া ভেঙে উত্সবে শামিল হন সকলে। দুর্গাপুজোর এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্যই তার 'হেরিটেজ' তকমা প্রাপ্য।
প্রসঙ্গত, মানবসভ্যতার বহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিরিখে এখনও পর্যন্ত বিশ্বের মোট পাঁচটি উত্সবকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল,বলিভিয়ার মতো বিশ্বের মাত্র ৫টি দেশের উত্সব এখনও পর্যন্ত ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ভারতের নামও। জুড়ে গিয়েছে বাংলা। করোনা অতিমারী কাটিয়ে তাই এবার বিশেষ উদ্যোমে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলার দুর্গাপুজো। একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে রাজ্য সরকারের তরফেও।


No comments:
Post a Comment